নিয়োগ বাণিজ্যে দুর্নীতির বরপুত্র কর কর্মচারী ফুয়াদ কোটি টাকা মালিক
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
২২-১০-২০২৬ ০৭:৫৮:০৪ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
২২-১০-২০২৬ ০৭:৫৮:০৪ অপরাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক
২০১৯ সালে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) নিম্ন বিভাগীয় সহকারী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন ফুয়াদ হাসান আকন্দ। অভিযোগ উঠেছে, মাত্র সাত বছরের ব্যবধানে নিয়োগ বাণিজ্য, জালিয়াতি ও দুর্নীতির মাধ্যমে তিনি প্রায় কোটি টাকার সম্পদের মালিক হয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে নামে-বেনামে বিপুল সম্পদ গড়ে তোলা এবং জালিয়াতির মাধ্যমে নিজের ভাইকে সরকারি চাকরি পাইয়ে দেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে।
অনুসন্ধান সূত্রে জানা যায়, ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার আলী আকবর ও রিনা আক্তার দম্পতির সন্তান ফুয়াদ হাসান আকন্দ ২০১৯ সালে এনবিআরে যোগ দেন। অভিযোগ রয়েছে, চাকরির শুরু থেকেই তিনি দ্রুত অর্থ উপার্জনের লক্ষ্যে বিভিন্ন অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন। নিম্ন পদে কর্মরত থাকলেও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার সুযোগ নিয়ে এনবিআরের তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির বিভিন্ন পদে নিয়োগ বাণিজ্যের একটি সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন।
কর অঞ্চল-১২-এর একাধিক কর্মচারীর অভিযোগ, এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে চাকরিপ্রার্থীদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা আদায় করা হতো। তাঁদের দাবি, একজন সাধারণ নাজিরের পক্ষে এত অল্প সময়ে বিপুল সম্পদের মালিক হওয়া অস্বাভাবিক। ফুয়াদের বিরুদ্ধে ওঠা গুরুতর অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে তাঁর ভাই শামীম আশরাফকে সরকারি চাকরি পাইয়ে দেওয়ার ঘটনা।
অনুসন্ধানী সূত্রের দাবি, ভাইকে রাজস্ব বোর্ডে চাকরি দিতে তিনি জালিয়াতির আশ্রয় নেন। তাঁদের স্থায়ী নিবাস ময়মনসিংহের ত্রিশালে হলেও শামীম আশরাফের ঠিকানা দেখানো হয় ঢাকার যাত্রাবাড়ী। ঢাকা জেলার কোটা ব্যবহার করে প্রয়োজনীয় যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও তাঁকে উচ্চমান সহকারী পদে নিয়োগ পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ফুয়াদের বিরুদ্ধে।
অথচ সরকারি কেন্দ্রীয় সার্ভারে জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য অনুযায়ী, শামীম আশরাফের ঠিকানা ঢাকা জেলায় অন্তর্ভুক্ত বা হালনাগাদ হয়নি বলে দাবি করা হয়েছে।
বর্তমানে শামীম আশরাফ কর সার্কেল-২৬৩ (সাভার)-এ উচ্চমান সহকারী হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। এর আগে অন্য একটি কর অঞ্চলেও জালিয়াতির মাধ্যমে ভাইকে চাকরিতে নিয়োগ দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে অনুসন্ধানী সূত্রের দাবি। তবে যাচাই-বাছাই ও যোগ্যতার প্রশ্নে সেই চেষ্টা সফল হয়নি বলে জানা গেছে। নিয়োগ বাণিজ্যে ফুয়াদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ আরও বিস্তৃত।
নির্ভরযোগ্য অনুসন্ধানী সূত্রের দাবি, গত সেপ্টেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ নিয়োগ প্রক্রিয়ায় তিনি অন্তত ১১ জন প্রার্থীকে অনিয়ম ও জালিয়াতির মাধ্যমে চাকরিতে যোগদানের সুযোগ করে দিয়েছেন। এ জন্য প্রত্যেক প্রার্থীর কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত সাত বছরে নিয়োগ বাণিজ্য ও দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থে ফুয়াদ রাজধানী ঢাকায় বিলাসবহুল ফ্ল্যাট, জমি এবং অন্যান্য সম্পদ গড়ে তুলেছেন। পাশাপাশি অবৈধ অর্থের উৎস আড়াল করতে ময়মনসিংহের ত্রিশালে পরিবারের সদস্যদের নামেও বিপুল পরিমাণ জমি ও স্থাবর সম্পত্তি কেনার অভিযোগ রয়েছে। এসব সম্পদের বাজারমূল্য কয়েক কোটি টাকা বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।
ফুয়াদ হাসান আকন্দের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পর তিনি ফোন ধরেননি বলে জানানো হয়েছে। পরে অভিযোগের বিস্তারিত উল্লেখ করে খুদেবার্তা পাঠানো হলেও তাঁর পক্ষ থেকে কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।
একজন সাধারণ সরকারি কর্মচারীর বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্য, জালিয়াতি ও বিপুল অবৈধ সম্পদ অর্জনের এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী। তবে অভিযোগগুলোর সত্যতা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।
নিউজটি আপডেট করেছেন : News Upload
কমেন্ট বক্স